আজকের টপিকটা IP Address নিয়ে লিখা। ধরুন আপনাকে বলা হল আপনার বাসা কোথায় ? হয়তো নির্দিষ্ট কোন ঠিকানায় ।যেখানে গেলে আপনাকে পাওয়া যাবে। ইন্টারনেটের জগতেও আপনার নির্দিষ্ট একটি ঠিকানা রয়েছে। যেটাকে বলা হয় আইপি এড্রেস (IP Address)



ইন্টারনেটে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসের একটি আলাদা নাম্বার থাকে যাকে বলা হয় আইপি  অ্যাড্রেস । যেমন : 172.14.252.1

আইপি অ্যাড্রেস এর মাধ্যমে একটি ডিভাইস কে অন্য ডিভাইস এর সাথে সংযুক্ত অথবা আলাদা করা হয়। পুরো পৃথিবী আইপি অ্যাড্রেস নিয়ন্ত্রন করে (International Assigned Number Authority).

এছারা আঞ্চলিক রেজিস্ট্রির জন্য রয়েছে পাঁচটি রিজিওনাল ইন্টারনেট রেজিস্ট্রি। এবং আমাদের এশিয়া মহাদেশ এর জন্য রয়েছে ( Asia  Pacific Network Information Centre ) । নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর কোন ডিভাইসকে একটি নির্দিষ্ট আইপির সাথে সংযুক্ত করে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় ইন্টারনেত প্রটোকল হচ্ছে  (IPv4)  এবং  (IPv6) । আমরা সাধারনত যে (IPv4) ব্যাবহার করে থাকি এটা অনেক পুরাতন একটি প্রটোকল।যেটা (১৯৯৩) তে ৩২ বিটের অ্যাড্রেস এ ব্যাবহার করা হয়। আর IPv6 ১৯৯৫ সালে চালু হয়। এছারা IPv5 ও চালু করা হয়েছিল যেটা স্ট্রিম প্রটোকল নামে পরিচিত। IPv5 খুব একটা জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। এছারা ভার্সন ১-৯ পর্যন্ত রয়েছে কিন্ত এর কোনটাই তেমন জনপ্রিয় নয়।

IPv4 কী?

IPv4 এ ৩২ বিট এর এড্রেস ব্যাবহার হয় ফলে মোট ২^৩২=৮,২৯,৪৯,৬৭,২৯৬ টি এড্রেস থকা সম্ভব। এই সংখ্যক এড্রেস কে চার ভাগে ভাগ করে প্রকাশ করা হয়। যার প্রতিটি ভাগে ৮ বিট করে থাকে। যাকে অক্টেট(Octet) বলা হয় এবং পুরো এড্রেস কে n.n.n.n হিসেবে প্রকাশ করা হয়, যেখানে n হল ০ থেকে ২৫৫ এর মধ্যে একটি সংখ্যা। কোন ভাগের প্রথমে ০ থাকলে সাধারনত সেগুলো বাদ দেওয়া হয়।

IPv6 কী?

IPv6 এ ১২৮ বিটের এড্রেস ব্যাবহার হওয়ায় মোট ২^১২৮৩.৪০৩x১০^৩৮ টি এড্রেস থাকা সম্ভভ। এই সম্ভভ এড্রেস দিয়ে ভবিষ্যতের চাহিদা পুরন করা সম্ভব। এই ভার্শনের এড্রেস সাধারনত হেক্সাডেসিমাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয় যেমনঃ 2001:db8:0:567:8:1। এছারা উভয় ভার্শনে কিছু সংখ্যক অ্যাড্রেস প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এর জন্য আলাদা বরাদ্দ করে রাখা হয়।

কোন ডিভাইসে আইপি এড্রেস কানেক্ট করার সময় দুইটি মেথড ফলো করা হয়। i)স্ট্যাটিক আইপি(Static IP) ii)ডায়নামিক আইপি(Dynamic IP)

কোন ডিভাইসে যদি আইপি এড্রেস কানেক্ট করে পরবর্তীতে আর পরিবর্তন করা না হয় তবে সে ধরনের আইপি এড্রেস কে স্ট্যাটিক আইপি এড্রেস(Static IP) বলা হয়। আর কোন ডিভাইসে নেটওয়ার্ক কানেক্ট করার সময় যদি প্রতিবারই নতুন নতুন আইপি এড্রেস কানেক্ট করা হয় তবে সেটা ডায়নামিক আইপি এড্রেস (Dynamic IP)।

একধরনের বিশেষ সফটওয়ার দ্বারা নির্দিষ্ট কিছু আইপি এড্রেসকে ব্লক করে রাখা হয়। যেমনঃ ফায়ারওয়াল সফটওয়ার (Firewall Software). এছারা আইপি এড্রেস এর মাধ্যমে ইউজার এর অবস্থান ও নির্ণয় করা সম্ভব।

পরিশেষে বলা যায় ইন্টারনেটের জগতে আইপি এড্রেস অনেক গুরুত পূর্ণ ভুমিকা রাখে।

আপনার যদি টপিক টা পরে ভালো লাগে তবে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

ধন্যবাদ।